Valve-এর নতুন Steam হার্ডওয়্যার: মিনি PC, কন্ট্রোলার ও VR হেডসেট একসাথে

গেমিং দুনিয়ায় বড় চমক নিয়ে এলো Valve একসাথে তিনটি নতুন হার্ডওয়্যার পণ্য ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি — একটি মিনি পিসি, একটি আধুনিক গেমিং কন্ট্রোলার, এবং একটি VR হেডসেট। ২০২৬ সালের শুরুতে এগুলো বাজারে আসার কথা রয়েছে। যারা PC গেমিং ভালোবাসেন কিন্তু বড় ডেস্কটপ সেটআপ চান না, তাদের জন্য এই পণ্যগুলো বেশ আগ্রহজনক হতে পারে।

Steam Machine: ছোট বাক্স, বড় পারফরম্যান্স

প্রথম পণ্যটির নাম Steam Machine। দেখতে একটি ছোট্ট বাক্সের মতো — মোটামুটি ৬ ইঞ্চির কিউবের আকার, মাত্র সাড়ে তিন লিটার আয়তন। কিন্তু এই ছোট্ট বাক্সটি চালাতে পারবে Steam-এর যেকোনো গেম।

ভেতরে কী আছে?

ভেতরে রয়েছে AMD-এর সেমি-কাস্টম CPU ও GPU। প্রস্তুতকারকদের দাবি, এই GPU-র পারফরম্যান্স Steam Deck-এর তুলনায় ছয় গুণেরও বেশি শক্তিশালী। RAM হিসেবে আছে ১৬ GB ব্যবহারকারী-প্রতিস্থাপনযোগ্য মেমোরি এবং আলাদা ৮ GB ভিডিও মেমোরি।

লক্ষ্যমাত্রা হলো FSR3 প্রযুক্তির সাহায্যে যেকোনো Steam গেম ৪K রেজোলিউশনে ৬০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে চালানো। বাস্তবে ভারী গেমগুলোর জন্য FSR-এর উপর নির্ভরতা থাকবে, কিন্তু ১০৮০p গেমিংয়ে পারফরম্যান্স বেশ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

পোর্ট ও কানেক্টিভিটি

পোর্টের দিক থেকে বেশ সমৃদ্ধ। পেছনে আছে DisplayPort, HDMI, Gigabit Ethernet, একটি USB-C এবং দুটি USB-A। সামনে রয়েছে আরও দুটি USB-A ও একটি মাইক্রো SD স্লট। যাদের কাছে Steam Deck আছে এবং গেম মাইক্রো SD-তে রাখেন, তারা সহজেই সেই কার্ড এখানে লাগিয়ে পুরো লাইব্রেরি ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন।

Wi-Fi 6E এবং Bluetooth-এর জন্য আলাদা আলাদা অ্যান্টেনা রয়েছে। এমনকি তাদের নিজস্ব কন্ট্রোলারের জন্যও একটি আলাদা চতুর্থ অ্যান্টেনা বরাদ্দ।

ডিজাইন ও কুলিং

ডিভাইসটিতে ম্যাগনেটিক ফেসপ্লেট রয়েছে, যা বদলানো যাবে। স্টোরেজ আপগ্রেডযোগ্য — ডিফল্টে ছোট 2230 ড্রাইভ থাকলেও বড় 2280 SSD লাগানো যাবে। কুলিং সিস্টেম হিসেবে একটিমাত্র ফ্যান ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু নয়েজ মাত্র ২৮-৩০ dB — যা অত্যন্ত নীরব। ৩০০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই সরাসরি ভেতরে বসানো, আলাদা অ্যাডাপ্টার নেই।

একটি মজার সুবিধা হলো RGB লাইট বার, যেটা গেম বা আপডেট ডাউনলোডের অগ্রগতি দেখাতে পারবে। আপডেট চালু রেখে টিভি দেখতে গেলেও, লাইট বার পূর্ণ হলে বুঝবেন গেম রেডি।

দাম কত হতে পারে?

Valve এখনো সরাসরি দাম জানায়নি। তবে তারা জানিয়েছে কনসোল-পর্যায়ের দামে নয়, বরং ছোট ফর্ম ফ্যাক্টর PC-র সাথে প্রতিযোগিতামূলক দামে আনবে। ৬৫০-৮০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মনে রাখবেন, CPU ও GPU আপগ্রেড করা যাবে না — কেনার সময়ই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

Steam Controller: Steam Deck-এর নিয়ন্ত্রণ এখন আলাদা কন্ট্রোলারে

Valve-এর প্রথম প্রজন্মের Steam Controller অনেকের কাছেই প্রিয় ছিল, বিশেষ করে টাচপ্যাড ব্যবহারের সুবিধার কারণে। সেই ধারণাটিকেই আরও উন্নত করে নতুন Steam Controller তৈরি হয়েছে।

বৈশিষ্ট্যসমূহ

নতুন কন্ট্রোলারে রয়েছে দুটি টাচপ্যাড, জাইরোস্কোপ কন্ট্রোল এবং উন্নত TMR (Tunneling Magneto-Resistance) স্টিক। TMR প্রযুক্তি Hall Effect-এর চেয়েও নির্ভরযোগ্য — ড্রিফট সমস্যা কম এবং ডেড জোন ছোট। চারটি হাই-ডেফিনিশন হ্যাপটিক মোটর রয়েছে — দুটি টাচপ্যাডের নিচে, দুটি হাতলে।

চার্জিং সিস্টেম

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো চার্জিং পদ্ধতি। একটি ম্যাগনেটিক পাক বা ডিস্কের উপর কন্ট্রোলার রাখলেই চার্জিং শুরু হয়ে যায় — ক্লিক করে লেগে যাওয়ার অনুভূতি বেশ সন্তোষজনক। এটি ওয়্যারলেস RF ট্রান্সমিটার হিসেবেও কাজ করে। ব্যাটারি ব্যাকআপ ৩০-৪০ ঘণ্টা।

জাইরো রিসেট ফিচার

কন্ট্রোলারের নিচে ক্যাপাসিটিভ সেন্সর আছে যা হাত সরানো বুঝতে পারে। জাইরোস্কোপ ব্যবহারের সময় হাত অস্বস্তিকর অবস্থানে চলে গেলে কন্ট্রোলার থেকে হাত সরালে জাইরো অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যায়। হাত পুনরায় রাখলে আবার সঠিক পজিশন থেকে শুরু হয়।

দাম আনুমানিক ৬০-৭০ ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Steam Frame: স্ট্রিমিং ও স্ট্যান্ডঅ্যালোন VR একসাথে

তিনটি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী হলো Steam Frame — একটি VR হেডসেট যা দুটি ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে।

স্ট্রিমিং মোড

প্রথম ব্যবহারবিধি হলো স্ট্রিমিং। একটি গেমিং ডেস্কটপ, ল্যাপটপ বা Steam Machine থেকে গেম সরাসরি এই হেডসেটে স্ট্রিম করা যাবে। এর জন্য একটি ডেডিকেটেড Wi-Fi 6E অ্যাডাপ্টার দেওয়া হয় যা শুধু ভিজ্যুয়াল ও অডিও ফিডের জন্য ব্যবহৃত হয়।

সবচেয়ে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি হলো Foveated Streaming। হেডসেটের আই-ট্র্যাকার বুঝতে পারে আপনি কোথায় তাকাচ্ছেন। ঠিক সেই জায়গায় স্ট্রিমিং বিটরেট বাড়িয়ে দেওয়া হয়, বাকি অংশে কমিয়ে রাখা হয়। যেহেতু চোখ একসাথে পুরো দৃশ্যের মাত্র ১০% ভালোভাবে দেখে, তাই এই পদ্ধতিতে ব্যান্ডউইথের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার হয়।

এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো — ডেভেলপারদের আলাদা কোনো কাজ করতে হয় না। Steam-এর সব গেমে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে।

স্ট্যান্ডঅ্যালোন মোড

দ্বিতীয় মোডে Steam Frame নিজেই একটি স্বতন্ত্র VR ডিভাইস হিসেবে কাজ করে। এতে রয়েছে Snapdragon 8 Gen 3 চিপ এবং Steam OS ARM ভার্সন। Proton এবং FEX নামক দুটি লেয়ার মিলে x86 গেমগুলো ARM আর্কিটেকচারে চালু করে দেয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় Hades 2-এর মতো গেম মসৃণভাবে চলেছে বলে জানা গেছে।

ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন

ওজন এক পাউন্ডের কম। সামনে চারটি ক্যামেরা, ভেতরে দুটি আই-ট্র্যাকিং ক্যামেরা। রেজোলিউশন ২১৬০x২১৬০ প্রতি চোখ। লেন্স Valve-এর নিজস্ব কাস্টম প্যানকেক ডিজাইনের এবং FOV প্রায় ১১০ ডিগ্রি।

পেছনে ব্যাটারি প্যাক রাখা হয়েছে ব্যালেন্সের জন্য। ২১.৬ ওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি বড় নয়, কিন্তু ওজন কম রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফ্রন্ট অংশটি আলাদা করা যায়, যেখানে প্রসেসর, RAM, স্টোরেজ ও ক্যামেরা — সব কিছু থাকে। এর ফলে পরবর্তীতে ভিন্ন স্ট্র্যাপ বা বড় ব্যাটারির অ্যাকসেসরি ব্যবহার করা যাবে।

পাস-থ্রু ক্যামেরার ফুটেজ শুধু সাদা-কালো, যা কিছুটা হতাশাজনক। তবে নাকের নিচে একটি পোর্ট থেকে থার্ড-পার্টি রঙিন পাস-থ্রু অ্যাড-অন সংযুক্ত করার সুবিধা থাকবে।

দামের ক্ষেত্রে Valve বলেছে Valve Index (৯০০ ডলার)-এর চেয়ে কম রাখার লক্ষ্য। প্রতিযোগী হিসেবে Meta Quest 3 (৫০০ ডলার) বেশ শক্তিশালী, কারণ দামে অনেক সাশ্রয়ী এবং কার্যকর।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা

বাংলাদেশে কনসোল গেমিংয়ের বিপরীতে PC গেমিংয়ের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। Steam Machine-এর মতো একটি কম্প্যাক্ট ডিভাইস যদি যুক্তিসংগত দামে পাওয়া যায়, তবে এটি অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে — বিশেষ করে যারা বড় ডেস্কটপ সেটআপের ঝামেলা এড়াতে চান। তবে বাংলাদেশে এই পণ্যগুলোর আনুষ্ঠানিক বিক্রি না হলে আমদানি করতে হবে, যা দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। VR গেমিংয়ের বাজার এখনো খুব সীমিত, কিন্তু Steam Frame-এর মতো স্বতন্ত্র হেডসেট ভবিষ্যতে আগ্রহী ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতার দরজা খুলে দিতে পারে।

উপসংহার

Valve এবার সত্যিকারের বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। Steam Machine দিয়ে কনসোল-প্রতিযোগী অভিজ্ঞতা, Steam Controller দিয়ে প্রিমিয়াম কন্ট্রোল অনুভূতি, এবং Steam Frame দিয়ে VR জগতে প্রবেশ — তিনটিই নিজ নিজ ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী। ২০২৬ সালের শুরুতে এগুলো বাজারে আসার পর পর্যালোচনা দেখেই বোঝা যাবে কতটুকু প্রতিশ্রুতি বাস্তবে পরিণত হলো।

আপনি কি এই তিনটি পণ্যের মধ্যে কোনটিতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী? কমেন্টে জানান এবং Steam গেমিং সম্পর্কিত আরও আপডেটের জন্য নজর রাখুন।

Leave a Comment